সিলেট, ৪ আগস্ট : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে রবিবার (৩ আগস্ট) নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, বিপিএম-সেবা’র সঙ্গে সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার সিলেট মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিকবান্ধব পুলিশি সেবা আরও কার্যকর ও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “সিলেট একটি পবিত্র নগরী। এর আগে এখানে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় সিলেটের মানুষ ও এখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা রয়েছে। সিলেটের মানুষ শান্তিপ্রিয় ও পরোপকারী।”
সভায় শুরুতে উপস্থিত সাংবাদিকরা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। পরে সিলেট মহানগরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, যানজট, মাদক, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনস্বার্থে পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় সাংবাদিকরা সিলেট মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন। তারা যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, ছিনতাই-চুরি ও সাইবার অপরাধ দমন, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
এছাড়া অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনলাইন জুয়া ও হানিট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করা, জিডি ও মামলা গ্রহণে হয়রানি বন্ধ, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে গতি আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বাড়ানো, মাদক চোরাচালান রোধ, মাদকের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা এবং নম্বরপ্লেটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানান।
পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, সিলেট মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে পুলিশের চলমান কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চুরি, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। পাশাপাশি থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করে গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের জিডি ও মামলা সংক্রান্ত সেবা সহজতর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ কমিশনার রাতের টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং সন্তানদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নজর রাখার অনুরোধ করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সকল শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতেই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য সিলেট মহানগর গড়ে তোলা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ও ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মো. মাসুদ রানা, পিপিএম-সেবা, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ, অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিবি) মো. আকতার হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম) মো. রিয়াজুল কবির, পিএসসি, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক, অতিরিক্ত দায়িত্বে সদর ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায় এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আফজাল হোসেন।
এছাড়া সভায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাব, সিলেট প্রেসক্লাব, ইমজা, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

উৎফল বড়ুয়া :